চীন-উত্তর কোরিরায় মতো একদলীয় শাসন চায় ক্ষমতাসীনরা: ফখরুল


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য হচ্ছে, তারা এককভাবে দেশ শাসন করতে চায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলমান আছে যেমন চীন, নর্থ কোরিয়া ও ভিয়েতনামে। এখানেও আওয়ামী লীগ একদলীয় ও একদলের শাসন চালু করতে চায়। তারা একদলীয় বাকশাল করতে চায়।

রোববার (৯ এপ্রিল) মহিলা দলের উদ্যোগে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নওগাঁয় সুলতানা জেসমিনকে হত্যার প্রতিবাদে’ আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র নেই বলেই কারোর অধিকার নেই। সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অনেকগুলো আইন তৈরি করেছে। মৌলিক জায়গাগুলোতে তারা সংবিধানকে পরিবর্তন করে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেছে। ১৯৭২ সালের আমাদের যে সংবিধান তৈরি হয়েছিল সেটি ছিল সবচেয়ে গণতান্ত্রিক। পরবর্তী সময়ে সংবিধানে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমান সরকারের কাছে নারী-পুরুষ, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কেউ নিরাপদ নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনে তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। আন্দোলনে তারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছিল। এর মধ্যে শেরাটন হোটেলের সামনে বাসে গান পাউডার ছিটিয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছে। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো জনগণের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

তুলে নেওয়া এবং নির্যাতনের কারণে নওগাঁর সুলতানা জেসমিনের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একজন নাগরিক এবং সরকারি কর্মচারী, তাকে এভাবে তুলে নেওয়া ভয়াবহ আইনের লঙ্ঘন, সংবিধান লঙ্ঘন। তাকে তুলে নেওয়া হলো কোন আইনে?

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না? সরকার কি রাষ্ট্র? সরকার কি গড? গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে আমি অবশ্যই আমার কথা বলবও। একমত না হতে পারি কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। অন্যায়ের কথা বললেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে দেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ও দুটি ধারা বাতিলের কথা বলেছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বাতিল করা হবে না। আইন দিয়ে মানুষের কথা বলার অধিকার বন্ধ করে দিতেই তারা তা বাতিল করবে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *